এ এম এ মুহিত সম্পর্কে

সিলেটের কৃতি সন্তান, সারাদেশের গৌরব, দেশবরেণ্য অর্থনীতিবিদ, আর্ন্তজাতিক খ্যাতি সম্পন্ন কূটনীতিবিদ, পরিবেশ আন্দোলনের মহান উদ্যোক্তা, জনসেবায় নিবেদিতপ্রাণ ভাষা-সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা আবুল মাল আব্দুল মুহিত মনে প্রাণে একজন সিলেটী। দেশে-প্রবাসে সর্বত্র তার বিচরণ থাকলেও তাঁর প্রাণ, মন আর কর্মতৎপরতা সিলেটকে ঘিরে। সিলেটের যে কোন সমস্যা, সংকটে অথবা প্রয়োজনে তিনি সবসময়ই ছিলেন, আজও আছেন এবং ভবিষ্যতেও সিলেটবাসীর পাশে থাকবেন।

আবুল মাল আবদুল মুহিতের জন্ম ১৯৩৪ সালের ২৫ জানুয়ারি, সিলেটে। তাঁর পিতা তৎকালীন সিলেট জেলা মুসলিম লীগের কর্ণধার এডভোকেট আবু আহমদ আবদুল হাফিজ, মাতা সিলেট মহিলা মুসলিম লীগের সভানেত্রী সৈয়দা শাহার বানু চৌধুরী। ৭ ভাই ও ৬ বোনের মধ্যে জনাব মুহিত ৩য়; ভাইবোনরা সবাই উচ্চশিক্ষিত, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত এবং দেশ-বিদেশে স্বনামে পরিচিত।

জনাব মুহিত ছাত্রজীবনে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। তিনি ১৯৫১ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে আইএ পরীক্ষায় সাবেক পূর্ব পাকিস্তানে ১ম স্থান; ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে বি এ অনার্স পরীক্ষায় ১ম শ্রেণীতে ১ম এবং ১৯৫৫ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করেন। চাকরিরত অবস্থায় তিনি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়ন এবং হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে এমপিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

আবদুল মুহিত যখন ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র, তখন স্কুলে ডিপিআই’র আগমন উপলক্ষে সাহসিকতার সাথে ইংরেজিতে বক্তৃতা করেছিলেন। শৈশব-কৈশোরেই শিশু সংগঠন করেছেন, ছাত্র সংগঠন করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধকালীন পাকিস্তান আন্দোলনে চাঁদা সংগ্রহ করেছেন। আবার সেই পাকিস্তানীদের শাসন-শোষণ বিরোধী আন্দোলন, বিশেষ করে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দানের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন -পাকিস্তানী শাসনের শুরুতে, ১৯৪৮ সালে; আন্দোলনের এক পর্যায়ে কারাবরণও করেছেন।

ইন্টারমিডিয়েটে রেকর্ড-ব্রেক রেজাল্টের পর অনার্সে ভর্তির ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে তাঁকে নিয়ে টানাটানি শুরু হয়। প্রায় সবগুলো বিষয়ে ভাল নম্বর পাওয়ায় সব বিষয়ের বিভাগীয় প্রধানরা তাঁকে নিজ ডিপার্টমেন্টে নিতে চাচ্ছিলেন। ছাত্র মুহিত সবার কথাই শুনলেন, সাথে সাথে কোন জবাব না দিয়ে শুভাকাঙ্খী গুরুজনের পরামর্শ চাইলেন- সাবজেক্ট চয়েসের ব্যাপারে। এর সাথে নিজের মতামত যোগ করে বেছে নিলেন ইংরেজি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে, বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভিপি হিসেবে সে সময়ের ছাত্র-আন্দোলন ও সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এ চৌকস মেধাবী ছাত্র কর্মজীবনে প্রবেশ করে জনসেবাকে বেছে নেন জীবনের মূল লক্ষ্য হিসেবে। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারে দায়িত্ব পালনকালীন পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র সাহসিকতার সাথে পেশ করেন মন্ত্রণালয়ে। আইয়ুব খান আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দিতে বঙ্গবন্ধু যখন রাওয়ালপিন্ডি যান তখন তার দলের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন জনাব মুহিত এবং তখন কতিপয় বাঙালি কর্মকর্তা বঙ্গবন্ধুকে সহযোগিতা দিয়েছিলেন বিভিন্ন তথ্য দিয়ে। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সুদূর ওয়াশিংটনে মার্চ ’৭১-এ মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন, ‘জয়বাংলা’ আওয়াজ তুলে জুন মাসে পকিস্তান দূতাবাসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে সপরিবারে ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে। আমেরিকায় বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠনে তাঁর ছিল নেতৃত্বের ভূমিকা।

মন্ত্রীসভার সদস্য হিসেবে স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে নিজ সম্পদের হিসাব প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠিয়ে যেমন চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন, তেমনি সহকর্মী অন্যান্য মন্ত্রী/উপদেষ্টা/প্রতিমন্ত্রীদেরও আহ্বান জানিয়েছেন তাদের সম্পদের হিসাব প্রধানমন্ত্রীর দফতরে জমা দিতে। এভাবেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনের লক্ষ্যে রেখেছেন অনন্য ভূমিকা।

ছাত্র-যুবকদের অনুকরণীয় ও প্রেরণা ব্যক্তিত্ব, হাস্যোজ্জ্বল ও চিরসবুজ আবুল মাল আবদুল মুহিত অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষা ও ছাত্র উন্নয়নে একের পর এক ভূমিকা রেখে চলেছেন। উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন, বাজেটে তাদের জন্য গ্রহণ করেছেন নতুন নতুন প্রকল্প।

জনাব মুহিত ১৯৬১ সালে তাজপুরের উসমানপুর গ্রামের এডভোকেট সৈয়দ মদরিস আলীর কন্যা সৈয়দ সাবিয়া বেগমকে বিয়ে করেন। সাবিয়া বেগমও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্রী ছিলেন এবং ইতিহাসে বি.এ অনার্স ও এম.এ-তে শীর্ষ পর্যায়ে পাস করেন। তিনি একজন ডিজাইনার হিসেবে নিউইয়র্কের পারসন্স স্কুলের প্রশিক্ষত বিশেষজ্ঞ। তাঁদের তিন সন্তানের মধ্যে প্রথম কন্যা সামিনা ব্যাঙ্কার ও আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞ, বড় ছেলে সাহেদ বাস্তু কলাবিদ ও নির্মানশিল্পে নিয়োজিত এবং কনিষ্ঠ পুত্র সামির শিক্ষকতায় নিয়োজিত।

মুহিতের জীবন বৃত্তান্ত

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী দেশের কৃতী সন্তান এ এম এ মুহিত দেশের প্রয়োজনে তাঁর কর্মকৌশল, মেধা, সততা, দক্ষতা ও সেবা দেখিয়ে সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের গৌরব বৃদ্ধি করছেন। সিলেটের এ সুসন্তান দেশের মানুষের জন্য গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করেছেন
বিস্তারিত...

যোগাযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস
৩৩ তোপখানা রোড, মেহেরবা প্লাজা
১৩ তলা, ঢাকা -১০০০
ফোনঃ ৯৫৬০২২৫, ৯৫৫০০৫৫,
ই-মেইলঃ info@campus.org.bd

মেইল করুন