কলেজ জীবন

ইন্টারমিডিয়েটে ১ম ॥ মুহিত’র চমক
১৯৫১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে গৃহীত ইন্টারমিডিয়েট আর্টসে ১ম স্থান লাভ করেছিলেন জনাব মুহিত। সে সময়কার অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন- ম্যাট্রিকে আমি কিন্তু স্টারই পাইনি, তবে রেজাল্ট ভাল ছিল। ম্যাট্রিক পাস করে এমসি কলেজে ভর্তি হলাম। এখানে আমাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেন কলেজের প্রিন্সিপাল আবু হেনা স্যার। যে বছর দার্শনিক জর্জ বার্নাড শ’ মারা গেলেন -তাঁর সম্মানে শোকসভার আয়োজন করা হলো আমাদের কলেজে। জর্জ বার্নাড শ’ সম্পর্কে আমার বিস্তারিত জানা ছিল। শোকসভায় আমি ইংরেজিতে দীর্ঘ বক্তব্য রাখলাম। প্রিন্সিপাল আবু হেনা খুব খুশি হলেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন, you will be an asset if you join English department in Honors class. ১৯৪৯-’৫১ দু’বছর সিলেট এমসি কলেজে ছিলাম। ইন্টারমিডিয়েটে আমি ফার্স্ট স্ট্যান্ড করলাম। আমি আগে থেকেই নিশ্চিত ছিলাম যে, এমন রেজাল্টই করবো। আর্টস সাবজেক্টে আমার অংক ছিল, যাতে ৯৩% নম্বর পেয়েছি, আর্টসের অন্যান্য বিষয়গুলোতে আমি ৬০, ৭০, ৮০ পেয়েছি প্রি-টেস্টে। কাজেই এ রেজাল্ট অন্যরা করতে পারবে না -এ ছিল আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আমি কোন বিষয়ে ৭০/৮০ এর নিচে পাইনি। আমার rival ছিল গোলাম মোস্তফা, সে সেকেন্ড স্ট্যান্ড করেছিল। আমি তাকে ৪৭ নম্বরের ব্যবধানে পরাজিত করি। তবে আশ্চর্য হলো- বাংলায় আমি পেয়েছিলাম মাত্র ৪৬। আমার ধারণা ছিল বাংলায় আমি অনেক ভাল। ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্র থাকাকালীন আমি বিএ ক্লাসের খাতাও examine করেছি।

ইন্টারমিডিয়েট পাশের পর সবাই ধরে নিল, আমি ইংলিশ ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হবো। কিন্তু আমি সমস্যায় পড়ে গেলাম, বন্ধু-বান্ধব সবাই ইকোনোমিক্সে; আমিই কেবল ইংরেজিতে! ইকোনমিক্সের অধ্যাপক আবু নসর মাহমুদ বললেন- সে ইকোনোমিক্সে ভাল মার্ক পেয়েছে, ইংরেজি নেবে কেন! কথাটা আমি বুঝলাম এবং চিন্তায় পড়ে গেলাম। আমার বাল্যকাল থেকে পরিচিত অর্থনীতির অধ্যাপক আখলাকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করে তাঁর পরামর্শ চাইলাম। তাঁকে আমি স্কুল জীবন থেকেই চিনি। তিনি বললেন, মাহমুদ সাহেব তোমার কথা বলেছেন; ইতিহাসের ওয়াদুদুর রহমান সাহেবও বলেছেন তোমার বিষয়ে; তুমি ইতিহাসে ৮৮ নম্বর পেয়েছ, তিনিও তোমাকে চান। তিনি আমাকে বোঝালেন- বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা আসলে কি। বিশ্ববিদ্যালয়ে মূলতঃ শেখানো হয়- কিভাবে পড়তে হয়, জ্ঞান আহরণ করতে হয়, গবেষণা করতে হয়; বাকীটা নিজের ওপর। কোন বিষয় নিয়ে পড়া হল সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। জ্ঞানার্জনের উপায় জানা থাকলে প্রয়োজনে ইকোনমিক্স তুমি আয়ত্ব করে নিতে পারবে। আমি বাড়ি গেলাম, মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম ইংরেজিতেই ভর্তি হবো। তবে সাথে থাকলো ইকোনোমিক্স ও ফিলসফি।

মুহিতের জীবন বৃত্তান্ত

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী দেশের কৃতী সন্তান এ এম এ মুহিত দেশের প্রয়োজনে তাঁর কর্মকৌশল, মেধা, সততা, দক্ষতা ও সেবা দেখিয়ে সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের গৌরব বৃদ্ধি করছেন। সিলেটের এ সুসন্তান দেশের মানুষের জন্য গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করেছেন
বিস্তারিত...

যোগাযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস
৩৩ তোপখানা রোড, মেহেরবা প্লাজা
১৩ তলা, ঢাকা -১০০০
ফোনঃ ৯৫৬০২২৫, ৯৫৫০০৫৫,
ই-মেইলঃ info@campus.org.bd

মেইল করুন