বিশ্ববিদ্যালয় জীবন

মুহিত ইন্টারমিডিয়েট পাশের পর সবাই ধরে নেয়, তিনি ইংলিশ ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হবেন। কিন্তু মুহিত সমস্যায় পড়ে যান, বন্ধু-বান্ধব সবাই ইকোনোমিক্সে; তিনিই কেবল ইংরেজিতে! ইকোনমিক্সের অধ্যাপক আবু নসর মাহমুদ বললেন সে ইকোনোমিক্সে ভাল মার্ক পেয়েছে, ইংরেজি নেবে কেন! কথাটা মুহিত বুঝলেন এবং চিন্তায় পড়ে গেলেন। তাঁর বাল্যকাল থেকে পরিচিত অর্থনীতির অধ্যাপক আখলাকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করে পরামর্শ চাইলেন। তিনি বললেন, মাহমুদ সাহেব তোমার কথা বলেছেন; ইতিহাসের ওয়াদুদুর রহমান সাহেবও বলেছেন তোমার বিষয়ে; তুমি ইতিহাসে ৮৮ নম্বর পেয়েছ, তিনিও তোমাকে চান। তিনি মুহিতকে বোঝালেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা আসলে কী। বিশ্ববিদ্যালয়ে মূলত শেখানো হয় কীভাবে পড়তে হয়, জ্ঞান আহরণ করতে হয়, গবেষণা করতে হয়; বাকীটা নিজের ওপর। কোন্ বিষয় নিয়ে পড়া হলো সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। জ্ঞানার্জনের উপায় জানা থাকলে প্রয়োজনে ইকোনমিক্স আয়ত্ব করে নিতে পারবে মুহিত। এ কথা শুনে মুহিত বাড়ি গেলেন, মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলেন ইংরেজিতেই ভর্তি হবেন। তবে সাথে থাকলো ইকোনোমিক্স ও ফিলসফি।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সমাজসেবাও করেছেন মুহিত। যেমন ১৯৫৪ সালে একটা বড় বন্যা হলো। মুহিতের অনার্স পরীক্ষা শেষ হয়েছে। তঁর শিক্ষক মি. টারনার বললেন তুমি কি বাড়ি যাচ্ছ? বন্যা-দুর্গতদের মাঝে একটু রিলিফের কাজ করে যেতে পারতে। মুহিত রাজি হলেন। বাড়ি যাওয়া স্থগিত হলো। ৫০/৬০ জনের একটা ভলান্টিয়ার গ্রুপ হলো। ঢাকা মহানগরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ কাজ পরিচালনা করলেন প্রায় ৩ মাস। তাঁদের কিছু টাকা ছিল সেগুলো নিয়ে গেলেন ঢাকা জেলার দুর্গম অঞ্চলে, যেখানে ত্রাণ কর্মীরা সাধারণত যায় না। এসময় ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে ত্রাণ কাজে অংশগ্রহণের সূচনা হলো। কিছু সামাজিক বাধা কিংবা অসুবিধার জন্য মেয়েরা এরূপ মানব-কল্যাণমূলক কাজে অংশ নিতে আগে দ্বিধা বোধ করতো। এবারে মেয়েরাও তাঁদের সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করলো এবং তারা ছিল দৃঢ়চিত্ত।

তবে মেয়েদের সম্পৃক্ত করার জন্য মুহিতদের কিছু পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল। ছেলে-মেয়েরা যাতে একসাথে মিলে ত্রাণ বা সমাজ সেবামূলক কাজ করতে পারে সেজন্য খুব সাবধানে দলগুলো গঠন করতে হতো। যেসব মেয়ে সাহস করে ত্রাণকাজে সম্পৃক্ত হন তারাও ছিলেন ব্যক্তিত্বশালী মহিলা। তাই নির্বিবাদে একসাথে ছেলে-মেয়েরা ত্রাণ কাজ করতে সক্ষম হন।

মুহিতদের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে মেলামেশার সুযোগ ছিল সীমিত। মেয়েদের সঙ্গে আড্ডা দেয়াতো দূরের কথা, কথা বলাও ছিল নিষিদ্ধ। শুধু শিক্ষকের উপস্থিতিতে সরাসরি কথা বলা যেত। তবে ১৯৫৩ সালে তাঁরা এক যুগান্তকারী পরিবর্তন করেন। প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক অভিনয়ে ছেলে ও মেয়েরা একসঙ্গে অভিনয় করে। এর আগে ছেলেরা মেয়ে সেজে অভিনয় করতো। সে সময় মুহিত এস এম হল ইউনিয়নের জয়েন্ট সেক্রেটারী। তাঁরা ঠিক করলেন যে, সহ-অভিনয় চালু করবেন। উদ্যোগী ছাত্রী পেতেও অসুবিধা হলো না। তখন হলের প্রভোস্ট ডঃ এম ও গণি। মুহিতরা তাঁকে তাঁদের উদ্দেশ্য বললেন ও তাঁর অনুমতি চাইলেন।

ডঃ এম ও গণি বললেন, যদি গার্জিয়ানরা আপত্তি না করেন তাহলে তিনি সাহায্য করতে পারেন। প্রমাণস্বরূপ দু’জন গার্জিয়ানের চিঠি সংগ্রহ করলেন মুহিতরা। মালিক আবদুল বারি একটি চিঠি দিলেন। তিনি লিখলেন মেয়েরা ছেলেদের সাথে সহ-অভিনয় করবে, সেটাইতো স্বাভাবিক। আমার মেয়ে সহ-অভিনয়ে অংশ নেবে। তাঁর মেয়ে ছিলেন নামকরা গায়িকা ফরিদা বারি মালিক।

আরেকজন ছিলেন মুনিনুন নেসার আব্বা খান বাহাদুর শামসুদ দাহার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার। তিনিও তাঁর মেয়েকে সহ-অভিনয়ে ছেলেদের সাথে অংশ নেয়ার সম্মতি দিলেন। ড. গণিও সানন্দে রাজী হলেন। মুহিতদের পথের বাধা অপসারিত হলো।

১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে বিএ অনার্স পরীক্ষায় ১ম শ্রেণিতে ১ম এবং ১৯৫৫ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করেন।

মুহিতের জীবন বৃত্তান্ত

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী দেশের কৃতী সন্তান এ এম এ মুহিত দেশের প্রয়োজনে তাঁর কর্মকৌশল, মেধা, সততা, দক্ষতা ও সেবা দেখিয়ে সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের গৌরব বৃদ্ধি করছেন। সিলেটের এ সুসন্তান দেশের মানুষের জন্য গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করেছেন
বিস্তারিত...

যোগাযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস
৩৩ তোপখানা রোড, মেহেরবা প্লাজা
১৩ তলা, ঢাকা -১০০০
ফোনঃ ৯৫৬০২২৫, ৯৫৫০০৫৫,
ই-মেইলঃ info@campus.org.bd

মেইল করুন