এক্সট্রা কারিকুলাম একটিভিটিজ

পড়ালেখার বাইরেও এক্সট্রা একাডেমিক কাজের প্রতি আমার আকর্ষণ ছিল বেশি, সবরকম খেলাধূলায় আমি অংশ নিতাম। কবিতা আবৃত্তি, নাটক, হাতে লেখা পত্রিকা, দেয়াল পত্রিকা ইত্যাদি প্রকাশে উৎসাহের সাথে কাজ করতাম।

আমি কবিতা আবৃত্তি, বিতর্ক, বক্তৃতা বা রচনা প্রতিযোগিতা, বাংলা ও ইংরেজি নাটকে অভিনয় করে বেশ কিছু পুরস্কারও অর্জন করেছি। তখনকার সিলেটের নামকরা প্রতিষ্ঠান মুসলিম সাহিত্য সংসদে সদস্য হই ১৯৪৫ সালে। ওখানে সাহিত্য সভা করতাম; এ প্রতিষ্ঠান থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি, পুরস্কারও পেয়েছি। সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি আমি ভলিবল, ফুটবল, বাস্কেটবল, ক্রিকেট খেলতাম।

স্কুলে থাকতেই বড় বড় সব বই পড়ে ফেলেছিলাম আমি। প্রচুর বই পড়তাম আর খেলাধুলা করতাম। বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাসও বাদ পড়েনি। বঙ্কিমচন্দ্র পড়ার একটা কারণ ছিল আমার এক শিক্ষক দ্বিজেন্দ্র বাবু, উনি কংগ্রেস পার্টির সাথে জড়িত ছিলেন, আমাকে খুব স্নেহ করতেন। একদিন আমাকে ডেকে বললেন মুহিত, তুমিতো বঙ্কিমকে পছন্দ করো না; আমার একটা উপদেশ আছে তুমি প্রথমে বঙ্কিম পড়ো; যদি ভালো না লাগে, তাহলে তোমার মতামত জানাবে। আমি শিক্ষকের উপদেশে বঙ্কিমের বই পড়া শুরু করলাম এবং তাঁর অনবদ্য সৃষ্টির প্রায় সবই পড়ে ফেললাম। কেননা এর মধ্যে আমি বুঝে ফেলেছিলাম, বঙ্কিমচন্দ্রই বাংলা সাহিত্যে আধুনিক ধারার প্রবর্তক। আমি রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুলের বইও পড়েছি, তাছাড়া ইতিহাস ছিল আমার খুব প্রিয় বিষয়।

সিলেটে মিলাদ উপলক্ষ করে কয়েকটি স্কুলে প্রতিবছরই স্বরচিত প্রবন্ধ, কবিতা ও রচনা প্রতিযোগিতা হতো। ১৯৪৪ সালে ক্লাস ফোরে পড়ার সময় প্রতিযোগিতা উপলক্ষে লেখা প্রবন্ধ এখনও আমার কাছে আছে। মিলাদ উপলক্ষে লেখার পুরস্কার নিয়েছিলাম জেলা জজ বেলায়েত হোসেন মোল্লার হাত থেকে। আরেকবার একটা প্রাইজ ডিস্ট্রিবিউশনে এসেছিলেন আসামের প্রধানমন্ত্রী স্যার মোঃ সাদুল্লাহ। সেটি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরের ঘটনা, সম্ভবত ১৯৪৫ সালের। সাথে শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন মিজ মুভিস ডান খাসিয়া উপজাতির লোক।

আমি এস এম হলে থাকাকালীন ঢাকায় একটি প্রতিযোগিতা হয়েছিল রোটারীর গোল্ডেন জুবিলী উপলক্ষে, রচনা প্রতিযোগিতা। কলকাতা, ঢাকা, মুম্বাই থেকে প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করেছিল। এসএম হলে আমার কামরা তখন অন্য একজন পরীক্ষার্থীকে একমাসের জন্য দিয়েছিলাম, তার প্রিপারেশনের সুবিধার্থে। রচনা প্রতিযোগিতার কথা শুনে আমি তাকে গিয়ে বললাম যে, রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্য আমার কয়েকদিন কামরায় থাকা প্রয়োজন। এরপর আমি রচনা লিখলাম এবং পুরস্কারও পেলাম। এ রচনার জন্য আমি ৭৫ টাকা পেয়েছিলাম, যা আমার আত্মবিশ্বাস আরও দৃঢ় করে তোলে। বিশ্ববিদ্যালয় চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল রচনা প্রতিযোগিতায়ও আমি অংশগ্রহণ করেছিলাম, কিন্তু এটাতে পুরস্কার পাইনি। এই একটিমাত্র রচনা প্রতিযোগিতায় আমি ব্যর্থ হয়েছিলাম। আর যা চেয়েছি, তা-ই পেয়েছি। আমি সব খেলা খেলতাম। খুব যে গুড প্লেয়ার ছিলাম, তা নয়; খেলতাম মনের সুখে।

মুহিতের জীবন বৃত্তান্ত

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী দেশের কৃতী সন্তান এ এম এ মুহিত দেশের প্রয়োজনে তাঁর কর্মকৌশল, মেধা, সততা, দক্ষতা ও সেবা দেখিয়ে সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের গৌরব বৃদ্ধি করছেন। সিলেটের এ সুসন্তান দেশের মানুষের জন্য গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করেছেন
বিস্তারিত...

যোগাযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস
৩৩ তোপখানা রোড, মেহেরবা প্লাজা
১৩ তলা, ঢাকা -১০০০
ফোনঃ ৯৫৬০২২৫, ৯৫৫০০৫৫,
ই-মেইলঃ info@campus.org.bd

মেইল করুন