ছাত্র-রাজনীতি

পারিবারিকভাবেই রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জনাব মুহিতের পরিচয়, যদিও দলীয় রাজনীতিতে এসেছেন অনেক পরে। তবে ছাত্রদের কল্যাণে নানা সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন এবং সমাজ উন্নয়নের স্বতস্ফূর্ত নানা কর্মের মধ্য দিয়েই একসময় দলীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

সিলেটে থাকাকালীন তিনি রাজনীতির সাথে মোটামুটি ভালোই জড়িত ছিলেন। মুহিতদের বাড়িতে একটা পলিটিক্যাল এনভায়রনমেন্ট ছিল বিভিন্ন সংগঠন, গ্রুপ এবং ব্যক্তি পর্যায়েও লোকজন তাঁর আব্বার কাছে পরামর্শের জন্য আসতো। এভাবে নিজেদের অগোচরে রাজনৈতিক চিন্তায় প্রভাবিত হয়ে যান মুহিতরা। ১৯৪৭ সালে মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন আবদুস সামাদ আজাদ। তিনি ঢাকায় চলে আসার পর তাঁর স্থলাভিসিক্ত হলেন আরেকজন। এটা ১৯৫০ সালের কথা। তখন দেশের অন্যান্য স্থানের মতো সিলেটেও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা মাথা তুলতে চাইলো। কিন্তু স্থানীয় সচেতন জনগণ এবং ছাত্ররা উদ্যোগী হয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বন্ধ করলো। ছাত্র-যুবকদের মধ্যে মুহিতরা ছিলেন অনেক স্বেচ্ছাসেবী। শান্তি কমিটির অফিস থেকে তাঁরা কাজে বেরুতেন, বয়স্করা তাঁদের ওপর দৃষ্টি রাখতেন। মুহিতের আব্বাও তাঁদের কার্যকলাপের বিষয়ে বিশেষ সচেতন ছিলেন। তাঁদের তৎপরতার ফলে ২/৩ দিনেই দাঙ্গা বন্ধ হয়ে যায়। প্রগ্রেসিভ ছাত্রনেতা তাসাদ্দুক আহমেদ, হাবিবুর রহমান পির সাহেব (প্রয়াত) এঁরা ছিলেন কম্যুনিস্ট, বামধারার রাজনীতির সাথে যুক্ত। তাঁরাই মুহিতদের পরামর্শ দিলেন তোমরা একটা নন-কম্যুনাল সংগঠন গড়ে তোলো। তোমরা কম্যুনিস্ট পার্টিতে যেতে পারবে না পুলিশ পেছনে লেগে থাকবে। এসব ভেবে একটি কমিটি করলেন মুহিত, নাম দেয়া হলো সিলেট এডুকেশন কমিটি; মুহিত তার কনভেনর। ১৯৫০ সালে এডুকেশন কনফারেন্স হলো ঢাকায়। ছাত্ররাই আয়োজন করলো। সিলেট থেকে ছাত্র এবং রাজনীতিবিদদের পক্ষে মুহিত ডেলিগেট চীফ হিসেবে ঢাকা গেলেন। এরপর আতাউর রহমান সাহেব বিপিসি রিপোর্ট (মূলনীতি কমিটি প্রতিবেদন) নিয়ে যে গ্র্যান্ড কনফারেন্স করলেন, সেখানে মুহিত সিলেট থেকে প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন।

জনাব মুহিত ১৯৫১ সালে ঢাকায় এসে দেখেন সংস্কৃতি সংসদ বেশ জোরালোভাবে কাজ করছে। এটি ছিল Progressive cultural organization. এর পাশে আরেকটা সংগঠন কাজ করতো -Islamic brotherhood. এ দু’টো সংগঠনের কার্যাবলী পর্যালোচনা করে মুহিত সংস্কৃতি সংসদে যোগ দিলেন। তখন ছাত্রলীগের দু’টো গ্রুপ ছিল মুসলিম ছাত্রলীগ এবং অল ইস্ট পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ। মুসলিম ছাত্রলীগ চলতো শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এবং অল-ইস্ট পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ চলছিল শাহ আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে। এছাড়া অন্যকোনো দল ছিল না। এরপর ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত হলো স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (ইপসু)। তখন প্রগ্রেসিভদের নিয়ে ইলেকশনে কোয়ালিশন হতো কোনো দলের ব্যানারে নির্বাচন হতো না। প্রথম যেবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন মুহিত সেবার ইলেকশন কোয়ালিশনে সামাদ সাহেব দাঁড়ালেন (আবদুস সামাদ আজাদ), তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মুজিবুল হক (সাবেক কেবিনেট সেক্রেটারী) ইস্ট পাকিস্তান মুসলিম ছাত্র লীগের পক্ষ থেকে। কম্যুনিস্ট পন্থী চিহ্নিত হয়ে মুহিতরা ৬ ভোটে হেরে যান। মুজিবুল হক ভাইস প্রেসিডেন্ট হলেন। পরের বছর মুহিতরা প্রগ্রেসিভ গ্রুপ ছাত্রলীগের সঙ্গে কোয়ালিশন করলেন। নাম দিলেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। মুহিত সেখানে জয়েন্ট সেক্রেটারী হলেন। জয়েন্ট সেক্রেটারী হবার পর ভিপি’র দায়িত্বও পালন করেন মুহিত। কারণ মুহিতদের ভিপি এবং সেক্রেটারী দু’জনই গ্রেফতার হয়ে ছিলেন। 

এসএম হলে পরবর্তী বছর যে ইলেকশন হলো, তাতে কিন্তু যুক্তফ্রন্ট বা কোয়ালিশন হলো না। ছাত্রলীগ আলাদা হয়ে গেল। ছাত্র ইউনিয়ন এবং লাইক-মাইন্ডেডরা একদিকে থাকল। আলাউদ্দিন আল-আজাদ হলেন সেক্রেটারী এবং আবদুল লতিফ মিয়া (প্রয়াত, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক) হলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। পরবর্তী বছর মুহিত প্রার্থী হলেন ভিপি পদে, প্রতিদ্বন্দ্বী সৈয়দ মোহাম্মদ আলী (সৈয়দ বদরুদ্দোজার ছেলে, বর্তমানে লন্ডনে) ১৭ ভোটের ব্যবধানে মুহিত নির্বাচিত হন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। মুহিতের জেনারেল সেক্রেটারী খুরশীদ আলম ১৯ ভোটে ফেল করলো। মুহিতের দলের মাত্র ৪ জন সদস্য নির্বাচিত হলো। মুহিত ছাড়া ইনাম আহমদ চৌধুরী, জহিরুল আনোয়ার এবং আবদুর রহমান। ভিপি, জয়েন্ট লাইব্রেরী সেক্রেটারী, একজন এসিসট্যান্ট সেক্রেটারী ও একজন মেম্বার।

মুহিতের জীবন বৃত্তান্ত

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী দেশের কৃতী সন্তান এ এম এ মুহিত দেশের প্রয়োজনে তাঁর কর্মকৌশল, মেধা, সততা, দক্ষতা ও সেবা দেখিয়ে সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের গৌরব বৃদ্ধি করছেন। সিলেটের এ সুসন্তান দেশের মানুষের জন্য গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করেছেন
বিস্তারিত...

যোগাযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস
৩৩ তোপখানা রোড, মেহেরবা প্লাজা
১৩ তলা, ঢাকা -১০০০
ফোনঃ ৯৫৬০২২৫, ৯৫৫০০৫৫,
ই-মেইলঃ info@campus.org.bd

মেইল করুন