সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে

বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী জনাব এ এম এ মুহিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে যোগ দেন সিভিল সার্ভিসে। এখানে কাটিয়েছেন ২৫ বছর। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের জের ধরে ১৯৫৫ সালে গ্রেফতার হয়েছিলেন, সেসময় দেখেছেন সিভিল সার্ভিসের ক্ষমতা। তারা ভালো কাজও করতে পারে, মন্দ কাজও করতে পারে। তখনই সিদ্ধান্ত নেন ক্যাডার সার্ভিসে পরীক্ষা দিবেন। যদিও লক্ষ্য ও প্রস্তুতি ছিল আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন। প্রথম জয়েন করেন ফরিদপুরে এসিসট্যান্ট ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে। এরপর বাগেরহাটের এসডিও।

মেধাবী ও কর্মযোগী এ এম এ মুহিত কর্মজীবনের শুরু থেকেই দায়িত্বশীল ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। এসডিও হিসেবে কাজ করতে গিয়ে দু’তিনটি আকর্ষণীয় বিষয়ের সাথে পরিচিত হন। তিনি দেখলেন, ইউনিয়ন কাউন্সিল চাইলে অনেক কিছু করতে পারে। তাঁর মহকুমায় ৪০টি ইউনিয়ন ছিল, তিনি প্রতিটি ইউনিয়ন ভিজিট করেছেন। বাগেরহাট মহকুমা হিন্দু-প্রধান এলাকা, এটি তখন বেশ উন্নত ছিল। তাঁর জেলা সিলেটের সঙ্গে তখন বাগেরহাটের তুলনা করা হলে বাগেরহাটই উন্নত প্রমাণিত হতো।

জনাব মুহিতের দৃষ্টিতে এলো বাগেরহাটের বন্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। এখানে অনেকগুলো বাঁধ তৈরি করা হয়েছিল। তিনি নিজেই বাঁধাগুলো দেখতে যেতেন, হাফপ্যান্ট পরে সেখানে ঘুরে বেড়াতেন। সেটা ১৯৫৯ সাল, মুহিত তখন ২৫ বছরের টগবগে যুবক।

এছাড়া ইউনিয়ন নির্বাচনও ছিল বেশ মজার বিষয়। প্রচুর লোক কেন্দ্রে ভোট দিতে আসতো। ৪ হাজারের মতো ছিল প্রার্থী। মুহিত একটা বুদ্ধি করলেন। পিসি কলেজের সায়েন্স বিল্ডিং তৈরির জন্য ফান্ড দরকার। আর তার জন্য প্রতি নির্বাচন প্রার্থীর কাছ থেকে ৫০ টাকা করে সংগ্রহ করা হলো। এরপর এক মাসব্যাপী মেলা ও ফেস্টিভ্যাল করার উদ্যোগ নেয়া হলো। মুহিত এতে আগ্রহী ছিলেন বেশি। এরই সূত্র ধরে ঢাকায় খান আতা এবং তার গ্রুপের সাথে যোগাযোগ হলো। তখন ঝর্ণা-শবনম নাট্যাঙ্গনে সক্রিয়, গানে ফরিদা ইয়াসমীন এরকম বহু সংস্কৃতি কর্মীকে সাংস্কৃতিক উৎসবে বাগেরহাটে নিয়ে গিয়েছিলেন মুহিত।

বাগেরহাটে এসডিও হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এলেন ঢাকায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আন্ডার সেক্রেটারী। তখন সেকশন ব্যবস্থা চালু হলে সেকশন অফিসার হন। সেখানেও অনেক অভিজ্ঞতা। ১৯৬১ সালে আইয়ুব খানের শাসনামলে রানী এলিজাবেথ ঢাকায় এলেন। কুইনের ভ্রমণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল দফতর। পূর্ব পাকিস্তানের মুহিত এবং কেন্দ্রীয় সরকারের আর একজন। মাত্র দু’জন বাঙালি কর্মকর্তা এ ভ্রমণের সাথে সংশ্লিষ্ট।

জনাব মুহিত কুইনকে রিসিভ করেছিলেন। আরও অনেক বিদেশী ডিগনিটরিজ এসময় ঢাকায় এসেছিলেন। জাপানের যুবরাজ আকিহিতো এসেছিলেন, সঙ্গে স্ত্রী মিচিকো সোডা, মুহিত তাঁদেরকেও রিসিভ করেছেন। মিচিকো সোডা মুহিতের স্ত্রীর সাথেও আলাপ করেছেন। এরপর আসলেন মালয়ের প্রধানমন্ত্রী টুংকু আবদুর রহমান। পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল আজম খানের সাথে কাজ করেছেন জনাব মুহিত। তাঁকে মুহিত খুব পছন্দ করতেন, ভালবাসতেন; তাঁর সাথে কাজ করে আনন্দও পেতেন। তারপর কয়েকবছর ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্টে কাজ করে আমেরিকার হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান। সেখানে এমপিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

হার্ভাড থেকে ফিরে আসার পর জনাব মুহিতকে সেন্ট্রাল গভর্ণমেন্টে পাঠানো হলো। সেন্ট্রাল গভর্ণমেন্টে ১৯৪৬-’৬৬ পর্যন্ত করাচীতে পরিকল্পনা বিভাগে চীফ অব প্রোগ্রাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্ল্যানিং কমিশনে প্রথমে প্রশাসনিক ডেপুটি সেক্রেটারী হিসেবে নিযুক্ত হন। অনেকগুলো ডিভিশন ছিল প্ল্যানিং কমিশনে। একেকটি ডিভিশনে একজন ডেপুটি সেক্রেটারী বা ডিভিশন প্রধান ছিলেন। মুহিত প্রোগ্রামিং ডিভিশনের দায়িত্ব পান। এরপর গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ কেবিনেট ডিভিশনে রাওয়ালপিন্ডিতে তাঁর পোস্টিং হলো। কেবিনেট ডিভিশনে বাঙালিদের মধ্যে প্রথম ডেপুটি সেক্রেটারী হলেন একেএম মুসা, প্রখ্যাত চলচ্চিত্র শিল্পী ও আবৃত্তিকার গোলাম মোস্তফার বড় ভাই। একেএম মুসার পর হলেন সাবের রেজা করিম, তারপর জনাব মুহিত। এই পর্যায়ে মুহিত আইয়ুব খানেরও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠলেন। এরপর সিদ্ধান্ত নেন ওয়াশিংটন যাবেন। অর্থ সচিবকে অনুরোধ করলেন। তিনি বললেন, যাও মন্ত্রীকে জানিয়ে রেখো। মন্ত্রীও অনুমতি দিলেন। কাজেই সবদিক পরিষ্কারই মনে হলো। ছুটি নিলেন মুহিত, কিন্তু এরই মধ্যে আইয়ুব প্রশাসন কলাপ্স করলো, পরিস্থিতি সামাল দিতে আইয়ুব খান রাউন্ড টেবিল কনফারেন্স ডাকলেন। অনুষ্ঠিত হলো রাউন্ড টেবিল কনফারেন্স। ১৯৬৮ সালের নভেম্বরে মুহিত ঢাকা আসলেন ওয়াশিংটন যাবার প্রস্তুতি নিয়ে। মুহিতকে বলা হলো ‘প্রেসিডেন্ট রাউন্ড টেবিল কনফারেন্স ডেকেছেন, তোমাকে ঐ সময় থাকতে হবে কাজেই তোমার ছুটি আপাতত স্থগিত’।

চলে গেলেন রাউন্ড টেবিল কনফারেন্সের প্রস্তুতিতে ১৯৬৯ এর জানুয়ারিতে। রাউন্ড টেবিল বৈঠক শেষ হলো মার্চে। আরও দু’তিন মাস থাকলেন মুহিত এ মিটিং, সেই মিটিং করে। বাঙালিদের প্রতি সীমাহীন বৈষম্য মুহিতকে করেছে ক্ষুদ্ধ। দীর্ঘ অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণে বাঙালিদের ক্ষোভের প্রেক্ষিতে ১৯৬২ সালের পর ইস্ট পাকিস্তানে কিছু ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্ক হয়। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বিরাজমান বৈষম্যের ওপর একটি রিপোর্ট তৈরি করতে বলা হয় প্ল্যানিং কমিশনকে। মুহিত যখন প্ল্যানিংয়ে এলেন তখন দেখলেন, ঐ রিপোর্টটা দেয়ার দায়িত্ব তাঁদের ডিভিশনের। পশ্চিম পাকিস্তানী কর্মকর্তারা কখনও পূর্ব পাকিস্তানের ডেভেলপমেন্টের রিপোর্ট পেশ করতেন না। কিন্তু প্রোগ্রামিং ডিভিশনে মুহিতের কাজই যখন রিপোর্ট পেশ করা, তিন সে সুযোগটা ছাড়লেন না। ওয়েস্ট পাকিস্তান ও ইস্ট পাকিস্তানের ডিসপ্যারিটির ওপর প্রথম রিপোর্ট মুহিতই জাতীয় সংসদে পেশ করেন। এরপর মুহিতের ট্রান্সফার হলো কেবিনেট ডিভিশনে। তাঁর পেশ করা সেই রিপোর্ট কেবিনেট ডিভিশনে পর্যালোচনা হয়, এর ওপর পত্র-পত্রিকায় অনেক লেখালেখি হয়। যদিও বৈষম্য দূরীকরণে মুহিতের সাজেশনগুলো বাস্তবায়ন হয়নি।

এরপর শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্ন স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়ে তোলা। সে সময় মুহিত যুক্তরাষ্ট্রে। তিনি এম্বেসীর চাকরিতে ইস্তফা দিলেন এবং সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে সমর্থন আদায়ের সংগ্রামে নামলেন। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বাঙালি জাতির স্বার্থের পক্ষে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ৪০টি স্টেটে বক্তব্য দিয়েছিলেন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে আসেন মুহিত। আসার আগেই তাঁর এপয়ন্টমেন্ট হয়েছিল প্ল্যানিং সেক্রেটারী হিসেবে। প্ল্যানিং ডিভিশনে যোগদান করলেন। দেশের সেরা অর্থনীতিবিদগণ তখন প্ল্যানিং কমিশনে ছিলেন ড. নুরুল ইসলাম, ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, প্রফেসর রেহমান সোবহান প্রমুখ। তাঁরা মুহিতের বন্ধু। বললেন প্রশাসনিক ব্যাপার নিয়ে ব্যুরোক্রাটদের সাথে ডিল করবেন আপনি। মুহিত বললেন ওটা আমার কাজ নয়, আমি প্ল্যানিং নিয়েই কাজ করতে চাই। দেশটা আমাদের, এখনত’ ঔপনিবেশিক শক্তির শাসন নেই; এখন আমরা সবাই মিলে কাজ করবো। মুহিত পরিকল্পনা কমিশনের সচিব ডেজিগনেট হিসেবে কাজ করলেন তিনমাস। এই সময় বঙ্গবন্ধু তাঁকে দু’টি কাজ দেন। একটি ছিল মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করার জন্য পরিকল্পনা এবং অন্যটি ছিল জেলা প্রশাসনের গণতন্ত্রায়ন। বলা হলো যে, মার্চ মাসের মাঝামাঝি মুহিতকে প্রতিবেদন ও সুপারিশ দিতে হবে। তিনি যথাসময়ে দু’টি প্রতিবেদনই পেশ করেন। ১৯৭২ সালের স্বাধীনতা দিবসের বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধু এই দু’টি কার্যক্রম ঘোষণাও করলেন। কিন্তু তাঁর জীবদ্দশায় সেগুলো বাস্তবায়ন হলো না। এছাড়া এই সময়ে যেসব বিদেশী মিশন ত্রাণ ও পুনর্বাসন নিয়ে আলোচনায় আসতো তাদের সঙ্গে মুহিত প্রায়ই যোগাযোগ রাখতেন।

অবশেষে এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ এম্বেসিতে চলে যান জনাব মুহিত। সেখানে তখন যারা কর্মরত ছিলেন সবাই তাঁর কলিগ আগে থেকেই ওখানে। স্বাধীনতার পর দু’বছর কাটলো ওয়াশিংটনে। এসময় প্রায়ই ঢাকায় আসতেন। এক পর্যায়ে তিনি রিজাইন করতে চাইলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী রাজি হলেন না, মুহিতকে এক বছরের জন্য বিশেষ দায়িত্ব দিলেন এতে মুহিত খুশি হন। সেসময় অর্থমন্ত্রী তাজুদ্দিন সাহেবও মুহিতকে বলেছিলেন, ইউ সুড নট রিজাইন; আপনি সরকারে থাকেন, দেশের জন্য অনেক ভালো হবে। আমাদের সরকারের জন্য সুবিধা হবে। আপনাকে আমি চার মাসের ছুটি দিলাম, আপনি দেশ থেকে ঘুরে আসুন।

১৯৭৩ সালের ডিসেম্বরে সপরিবারে ঢাকা আসেন মুহিত। জনাব মুহিতের পরিবারের জন্য এই ছিল স্বাধীন বালাদেশে প্রথম পদার্পণ। মুহিত ঢাকায় থাকেন জুন পর্যন্ত। কারণ তাঁকে প্রায়ই অন্য এসাইনমেন্টে যেতে হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা সংস্কারের গ্রুপ অব টুয়েন্টির সভায় তাঁকে যেতে হয় কয়েকবার। এছাড়া তিনি বিশেষ দূত হিসেবে যান আবুধাবিতে। এর মধ্যে তাঁকে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিযুক্তির ব্যবস্থা হলো। তিনি ওয়াশিংটন ছাড়বেন বলে সেখানে ফিরলেন ১৯৭৪ সালের মে মাসে। সেখানে পৌঁছেই হুকুম পেলেন যে, তাঁকে ইসলামী মন্ত্রী সম্মেলনে যেতে হবে কুয়ালালামপুর এবং তারপর ঢাকায় যেতে হবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর ঢাকা ভ্রমণকালে। ভুট্টোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় তাঁকে বাংলাদেশ ডেলিগেশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মুহিতের একটি দায়িত্বও হয় পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পদ ভাগাভাগির বিষয়ে প্রতিবেদন ও সুপারিশ প্রণয়ন। তিনি এ কাজটি সম্পন্ন করেন ১৯৭৪ সালেই এবং পরিকল্পনা কমিশনের মরহুম আতাউল হক খন্দকার এই কাজে তাঁকে সহায়তা করেন। ওয়াশিংটনে প্রত্যাবর্তনের প্রাক্কালে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডঃ কামাল হোসেন বলেন যে, মুহিতকে ম্যানিলা গমন পেছাতে হবে। তিনি জানালেন, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু যেতে পারেন এবং তখন তিনি ওয়াশিংটনও যাবেন। তাই তাঁর মার্কিন দেশ ভ্রমণকালে মুহিতকে সেখানে থাকতে হবে। মুহিত জানালেন যে, সেপ্টেম্বরে তাঁর এডিবিতে যোগ দেবার কথা; তবে তা তিনি পিছিয়ে দিতে পারেন এবং অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর আমেরিকা সফরকালে তিনি সেখানে থাকবেন। তখন জনাব হোসেন আলী ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কী প্রোগ্রাম হবে, সে বিষয়ে তিনি মুহিতকেই ব্যবস্থা করার দায়িত্ব দিলেন। সবাই মিলে প্রধানমন্ত্রীর ভ্রমণসূচী প্রণয়ন করা হলো। প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে পৌঁছলে মুহিত সেখানে গেলেন এবং ওয়াশিংটনের নানা সভা-সমিতি ও মোলাকাতের ব্যবস্থা করতে ব্যস্ত থাকলেন। বঙ্গবন্ধু ওয়াশিংটনে খুবই কম সময় ছিলেন। কিন্তু তাঁর মুহূর্তের জন্যও কোনো অবকাশ ছিল না। তিনি আমেরিকা ছাড়লে পর মুহিত ম্যানিলায় গেলেন এডিবিতে যোগ দিতে। সেটা ছিল ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বর। ম্যানিলা থেকে প্রথম ঢাকায় যান ১৯৭৫ সালের মার্চ মাসে। এডিবি’র প্রেসিডেন্ট শিরো ইন্যুয়েকে বাংলাদেশে নিয়ে যান। এরপরে ঢাকা থেকে ডাক আসলো জুলাই মাসে ইসলামী সম্মেলনে জেদ্দা যেতে। কথা ছিল এই সম্মেলনের ফাঁকে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পদ বিভাজনের আলোচনা হবে। বাস্তবে তা হলো না যদিও সকলে প্রস্তুত ছিলেন। সম্মেলন শেষে ঢাকায় ফিরতে পারলেন না মুহিত। কারণ তাঁকে ইসলামী ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের উদ্বোধনী অধিবেশনে ডেলিগেট মনোনয়ন করা হয়। এই ব্যাংকের পস্তুতি কমিটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি ছিলেন জনাব মুহিত। এর উদ্বোধনী অধিবেশন ছিলো রিয়াদে এবং তাতে নেতৃত্ব দেন অর্থমন্ত্রী ড. এ আর মল্লিক। রিয়াদ থেকে ঢাকায় ফিরলেন জুলাইয়ের শেষে। ৫ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকায় ছিলেন মুহিত।

মুহিতের জীবন বৃত্তান্ত

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী দেশের কৃতী সন্তান এ এম এ মুহিত দেশের প্রয়োজনে তাঁর কর্মকৌশল, মেধা, সততা, দক্ষতা ও সেবা দেখিয়ে সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের গৌরব বৃদ্ধি করছেন। সিলেটের এ সুসন্তান দেশের মানুষের জন্য গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করেছেন
বিস্তারিত...

যোগাযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস
৩৩ তোপখানা রোড, মেহেরবা প্লাজা
১৩ তলা, ঢাকা -১০০০
ফোনঃ ৯৫৬০২২৫, ৯৫৫০০৫৫,
ই-মেইলঃ info@campus.org.bd

মেইল করুন