মন্ত্রী হিসেবে

১৯৮১ সালের ১৯ ডিসেম্বর সরকারের সচিব পদ থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন জনাব মুহিত। কেউ ভাবতে পারেনি যে, তিনি স্বেচ্ছায় অবসর নেবেন। তিনি স্বাধীনভাবে নানা কনসালটেন্সী শুরু করলেন। এরপর মন্ত্রী হবার প্রস্তাব আসল। মন্ত্রীত্বের প্রস্তাব প্রথমে প্রত্যাখান করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে মন্ত্রী হতে হলো। ১৯৮২ সনের ২৭ মার্চ থেকে প্রথমে উপদেষ্টা হিসেবে থাকেন, প্রায় দু’মাস পর ১৩ মে থেকে হলেন সবেতন মন্ত্রী। ১৯৮৪ সালের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত মন্ত্রীত্বে ছিলেন ২০ মাস। এর মধ্যে ২টি বাজেট পেশ করেছিলেন।

১৯৮২ সালে মুহিত যখন মন্ত্রী হন, তখন তা ছিল খুব সমস্যাসংকুল কাজ। জেনারেল এরশাদ ’৮২ সালের জানুয়ারি থেকেই ক্ষমতা গ্রহণের প্রস্তুতি নিতে থাকেন। তিনি জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে দু’বার তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ডাকেন মুহিতকে। মুহিত তাঁকে বলেন যে সামরিক শাসন ভালো নয় এবং তাতে চূড়ান্ত বিবেচনায় দেশের মঙ্গল হয় না। কিন্তু তখনই তাঁর মনে হয়েছিল, এরশাদ ক্ষমতা গ্রহণ করবেনই। মুহিত এরশাদ সাহেবকে বলেছিলেন যে, তাঁর মন্ত্রীসভায় যোগদানের ব্যাপারে তিনি যেন মুহিতকে জোরাজুরি না করেন। তিনি বললেন ঠিক আছে, তবে মাঝে-মধ্যে আপনার ডাক পড়বে জরুরি প্রয়োজনে; তখন আপনাকে সাড়া দিতেই হবে। এরপর এরশাদ মার্শাল ল’ করে ফেললেন। মুহিত ভাবলেন এবার সমস্যা হবে, এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি পথ খুঁজতে থাকলেন। প্রফেসর রাজ্জাক সাহেবের কাছে পরামর্শের জন্যও গেলেন। তিনি বললেন সামরিক শাসন একটি বাস্তবতা। আপনি যুক্ত না হলেও তারা ক্ষমতা প্রয়োগ করবে। তবে আপনিতো সরকারের একদিক চালাবেন, তাই অসুবিধা কী?

সেবারে ১৯৮২ সালে মন্ত্রীত্ব গ্রহণ করার সময় অনেক দ্বিধাবোধ ছিল জনাব মুহিতের। সামরিক সরকারের একজন হতে খুব আপত্তি ছিল। তাই অনেক রিজার্ভেশনসহ তখন মন্ত্রী হন। কিন্তু এরপর শেখ হাসিনার সরকারে তিনি আনন্দের সাথে মন্ত্রীত্ব গ্রহণ করেন এই ভেবে যে, এবার তিনি কিছু করতে পারবেন এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে পারবেন। সে লক্ষ্য অর্জনে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিত।

অর্থমন্ত্রী মুহিতের প্রথম বাজেট ছিল ১৯৮২-৮৩ সালে। তখন রাজস্ব আয় ছিল মোট ২৭১০ কোটি টাকা আর মোট সরকারি ব্যয় ছিল ৪৪১১ কোটি টাকা। পরবর্তী বাজেটের আকার ছিল ৫২১৭ কোটি টাকা। ছাব্বিশ বছর পর তাঁর প্রথম বাজেট (২০০৯-’১০) হলো ১,১১,৫০০ কোটি টাকার বাজেট। ১৯৮৩-৮৪ তে বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণ ছিল জাতীয় আয়ের ৯ শতাংশ আর ২০০৯-’১০ এ এটা হলো মাত্র ২ শতাংশের কাছাকাছি। পরিবর্তনটি ব্যাপক এবং লক্ষ্যনীয়। এতে প্রগতির একটি পরিমাপও পাওয়া যায়।

মুহিতের জীবন বৃত্তান্ত

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী দেশের কৃতী সন্তান এ এম এ মুহিত দেশের প্রয়োজনে তাঁর কর্মকৌশল, মেধা, সততা, দক্ষতা ও সেবা দেখিয়ে সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের গৌরব বৃদ্ধি করছেন। সিলেটের এ সুসন্তান দেশের মানুষের জন্য গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করেছেন
বিস্তারিত...

যোগাযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস
৩৩ তোপখানা রোড, মেহেরবা প্লাজা
১৩ তলা, ঢাকা -১০০০
ফোনঃ ৯৫৬০২২৫, ৯৫৫০০৫৫,
ই-মেইলঃ info@campus.org.bd

মেইল করুন